প্রশ্ন:
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো মেয়ে কি কোনো ছেলেকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে ?
উত্তর:
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
কোনো নারী যদি কোনো পুরুষের দ্বীনদারিত্ব, উত্তম চরিত্র, ইসলামী জ্ঞান বা ভদ্র আচরণে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন সরাসরি বা অভিভাবকের মাধ্যমে তাতে কোনো দোষ নেই; বরং এটি শরীয়তসম্মত একটি কাজ। হযরত খাদিজা (রা.) নিজেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সৎ চরিত্র ও আমানতদারিতায় আকৃষ্ট হয়ে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে প্রস্তাবের অজুহাতে গোপন সম্পর্ক স্থাপন করা বা অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। উল্লেখ্য, উভয় পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে প্রস্তাব আদান-প্রদান করে বিবাহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই উত্তম। তবে কোনো মেয়ে যদি নিজে থেকেই কোনো ছেলেকে প্রস্তাব দেয়, তাও শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েয।
قَالَ سَمِعْتُ ثَابِتًا الْبُنَانِيَّ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ أَنَسٍ وَعِنْدَهُ ابْنَةٌ لَهُ، قَالَ أَنَسٌ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَعْرِضُ عَلَيْهِ نَفْسَهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَكَ بِي حَاجَةٌ، فَقَالَتْ بِنْتُ أَنَسٍ مَا أَقَلَّ حَيَاءَهَا وَاسَوْأَتَاهْ وَاسَوْأَتَاهْ. قَالَ هِيَ خَيْرٌ مِنْكِ رَغِبَتْ فِي النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَعَرَضَتْ عَلَيْهِ نَفْسَهَا
১.অর্থ: সাবিত আল-বুনানী (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রা.) এর কাছে ছিলাম। তখন তাঁর কাছে তাঁর কন্যাও ছিলেন। আনাস (রা.) বললেন, একজন মহিলা নিজেকে মহানবী (ﷺ) এর কাছে সমর্পণ করতে এসে বলল, ইয়া রসুলাল্লাহ! আপনার কি আমার প্রয়োজন আছে ? এ কথা শুনে আনাস (রা.) এর কন্যা বললেন, হায়! হায়! এ মহিলা কতইনা নির্লজ্জ। তা শুনে আনাস (রা.) বললেন সে মহিলা তোমার চেয়ে উত্তম, সে মহানবী (ﷺ) এর সাহচর্য পেতে আকৃষ্ট হয়েছিল। এ কারণেই সে নবী (ﷺ) এর কাছে নিজেকে পেশ করেছে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১২০ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا
২.অর্থ: ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মেয়ে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অভিভাবকের চেয়ে নিজেই বেশি হকদার। (সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ১৪২১ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৯৮ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا ” . قَالَ نَعَمْ .
৩.অর্থ: ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্ব বিবাহিতা তার (নিজের বিবাহের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে) নিজের ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হকদার। কুমারীকে তার থেকে তার ব্যাপারে অনুমতি নিতে হবে, তার নীরবতাই তার সম্মতি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪২১ হাদীসের মান: সহীহ)
ولاية ندب”اي يستحب للمراةتفويض امرها الى وليها كي لا تنسب الى الوقاحة
৪.অর্থ: মহিলার জন্য মুস্তাহাব নিজের বিবাহের বিষয়কে নিজের অলির দিকে ন্যস্ত করা, যাতে করে নির্লজ্জতার দিকে সম্পৃক্ত না করা হয়। (ফতোয়ায়ে শামী: ৪/১৪৯ আশরাফিয়া)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-উমর ফারুক।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply