প্রশ্ন:
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে একজন পুরুষ কি শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা খেয়ালের কারণে একাধিক বিবাহ করতে পারবে, নাকি বিশেষ কোনো শর্ত আছে ?
উত্তর:
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
ইসলাম একাধিক বিবাহকে সুন্নত বা মুস্তাহাব নয়, বরং মুবাহ (বৈধ) হিসেবে অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ করা যায়, কিন্তু তা উৎসাহিত নয়। তবে এই অনুমতি শর্তসাপেক্ষ। যে পুরুষ শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম এবং ন্যায় ও সমতা বজায় রাখতে পারে, তার জন্য একাধিক বিবাহ বৈধ। ইসলাম একজন পুরুষকে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু যদি স্ত্রীদের অধিকার ও সমতা রক্ষা করতে না পারার আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য একাধিক বিবাহ জায়েয নয়; বরং একজন স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক। অতএব, কেবল ইচ্ছা বা আবেগের বশে একাধিক বিবাহ করা ইসলামে অনুমোদিত নয়; এটি হতে হবে সক্ষমতা, সমতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে।
وَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تُقۡسِطُوۡا فِی الۡیَتٰمٰی فَانۡکِحُوۡا مَا طَابَ لَکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ مَثۡنٰی وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ ۚ فَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تَعۡدِلُوۡا فَوَاحِدَۃً اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ؕ ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَلَّا تَعُوۡلُوۡا ؕ
১.অর্থ: তোমরা যদি আশংকা করো যে, এতিম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না। তবে (তাদেরকে বিবাহ না করে) অন্য নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় বিবাহ করো দুই, তিন কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি আশংকা করো যে, তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে সমতা করতে পারবে না, তাহলে এক স্ত্রীতে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীতে (ক্ষান্ত থাক)। এতে তোমাদের পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা বেশি। (সূরা নিসা: আয়াত নং ৩)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” إِذَا كَانَ عِنْدَ الرَّجُلِ امْرَأَتَانِ فَلَمْ يَعْدِلْ بَيْنَهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ سَاقِطٌ
২.অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন যে লোকের নিকট দুইজন স্ত্রী আছে সে লোক যদি তাদের মধ্যে সমতা না রাখে তবে কিয়ামতের দিন সে লোক তার দেহের এক পার্শ্ব ভাঙ্গা অবস্থায় উপস্থিত হবে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১৪১ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১১৩৩ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ غَيْلاَنَ بْنَ سَلَمَةَ الثَّقَفِيَّ، أَسْلَمَ وَلَهُ عَشْرُ نِسْوَةٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَأَسْلَمْنَ مَعَهُ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَخَيَّرَ أَرْبَعًا مِنْهُنَّ
৩.অর্থ: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, গায়লান ইবনে সালামা ছাকাফী যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তার অধিকারে জাহিলী যুগের দশজন স্ত্রী ছিল। তাঁরাও তার সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করে। তখন নবী (ﷺ) তাকে এদের মধ্যে যে কোন চারজনকে নিজের জন্য বেছে নেয়ার নির্দেশ দেন। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১২৮ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৯৫৩ হাদীসের মান: সহীহ)
قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، قَالَ حَضَرْنَا مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ جَنَازَةَ مَيْمُونَةَ بِسَرِفَ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هَذِهِ زَوْجَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا رَفَعْتُمْ نَعْشَهَا فَلاَ تُزَعْزِعُوهَا وَلاَ تُزَلْزِلُوهَا وَارْفُقُوا، فَإِنَّهُ كَانَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تِسْعٌ، كَانَ يَقْسِمُ لِثَمَانٍ وَلاَ يَقْسِمُ لِوَاحِدَةٍ
৪. অর্থ: আতা (রহ.) বলেন, আমরা ইবনে আব্বাস (রা.) এর সঙ্গে ‘সারিফ’ নামক স্থানে রাসূল (ﷺ)-এর সহধর্মিনী মায়মুনা (রা.) এর জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ইনি রাসূল (ﷺ)-এর সহধর্মিনী। সুতরাং যখন তোমরা তাঁর জানাযা উঠাবে তখন ধাক্কা-ধাক্কি এবং জোরে নাড়া-চাড়া করো না; বরং ধীরে ধীরে নিয়ে চলবে। কেননা, রাসূল (ﷺ) এর নয়জন স্ত্রী ছিলেন। তিনি আট জনের সাথে পালাক্রমে রাত্রি যাপন করতেন। কিন্তু একজনের সাথে রাত্রি যাপনের পালা ছিল না। (কারণ স্বেচ্ছায় সেই স্ত্রী অধিকার ত্যাগ করেছিলেন) [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৬৭ হাদীসের মান: সহীহ]
(ومكروهاً لخوف الجور) فإن تيقنه حرم ذلك
৫.অর্থ: (আর অন্যায়ের ভয়ে এটা অপছন্দনীয়)। যদি সে নিশ্চিত থাকে, তাহলে এটা নিষিদ্ধ।(ফতোয়ায়ে শামী ৪/৭৪ আশ্রাফিয়া)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-মুহাম্মদ রাকিবুল হাসান।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply