প্রশ্ন:
কোনো অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে তার মুসলিম হওয়ার জন্য শুধু কালেমা পাঠ করাই কি যথেষ্ট, নাকি মুসলিম হওয়ার জন্য খতনা করাও জরুরি ?
উত্তর:
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
ইসলামী শরীয়তে খতনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং ইসলামের মৌলিক নিদর্শনের মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত। তবে মুসলমান হওয়ার জন্য খতনা করা শর্ত নয়। বরং কোনো ব্যক্তি যদি আন্তরিকভাবে ঈমান এনে বিশ্বাসের সাথে কালিমা “লা-ইলাহা ইল্লাল্লহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ” পাঠ করে। তাহলে সে মুসলমান হয়ে যাবে। খতনা না করলেও তার ইসলাম গ্রহণ সহীহ ও বৈধ হবে। তবে খতনার মধ্যে যেহেতু ধর্মীয় পরিচয়ের নিদর্শন থাকার পাশাপাশি বহু শারীরিক উপকারিতা রয়েছে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই ইসলাম গ্রহণের পর সুযোগ ও সামর্থ্য থাকলে খতনা করে নেওয়া উচিত।
وَعَن رِفَاعَة الْجُهَنِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ أَقبلنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى إِذا كُنَّا بالكديد أَو بِقديد فَحَمدَ الله وَقَالَ خيرا وَقَالَ أشهد عِنْد الله لَا يَمُوت عبد يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله صدقا من قلبه ثمَّ يسدد إِلَّا سلك فِي الْجنَّة
১.অর্থ: হযরত রিফা’আ জুহানী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা একদা রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাথে ভ্রমণ করলাম। যখন কালীদ অথবা ক্বাদীদ নামক স্থানে পৌঁছলাম, তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং উত্তম বাক্য উচ্চারণ করলেন। আর বললেন, আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, কোন ব্যক্তি যদি এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। অতঃপর সঠিক পথে জীবন পরিচালনা করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হাদীস নং ২৩৫৫ হাদীসের মান: হাসান)
عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ شَعِيرَةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ بُرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ “.
২.অর্থ: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেনঃ যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও নেকী থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি গম পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৪ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ عُثَيْمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ قَدْ أَسْلَمْتُ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ ” . يَقُولُ احْلِقْ . قَالَ وَأَخْبَرَنِي آخَرُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لآخَرَ مَعَهُ ” أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ وَاخْتَتِنْ
৩.অর্থ: উছায়েম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি তোমার দেহ হতে কুফরী যুগের চিহ্ন ফেলে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, অপর একজন বর্ণনাকারী আমাকে জ্ঞাত করেছেন যে, ইসলাম গ্রহণের সময় অপর সাথীকে নবী (ﷺ) নির্দেশ দেনঃ তুমি তোমার শরীর হতে কুফরী যুগের নিদর্শন ফেলে দাও এবং খতনা করো। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫৬ হাদীসের মান: হাসান)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اخْتَتَنَ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَهُوَ ابْنُ ثَمَانِينَ سَنَةً بِالقَدُّومِ»
৪.অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নবী ইবরাহীম (আ.) সূত্রধরদের অস্ত্র দ্বারা নিজের খাতনা করেছিলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল আশি বছর। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩৫৬ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৯২৮ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” الفِطْرَةُ خَمْسٌ: الخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَنَتْفُ الإِبْطِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ ”
৫.অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের স্বভাবগত বিষয় হল পাঁচটিঃ খাতনা করা, নাভির নীচের পশম কামানো, বগলের পশম উপড়ানো, গোঁফ কাটা এবং নখ কাটা। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২৯৭ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৭ হাদীসের মান: সহীহ)
و إسلامه أن یأتي بکلمة الشهادۃ ویتبرأ عن الأدیان کلها سوی الإسلام.”
৬.অর্থ: মুসলিমের জন্য ইসলাম গ্রহণ করতে হলে কালিমা শাহাদাত পড়বে এবং ইসলাম ছাড়া অন্য সকল ধর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া:২/২৬৭ আশরাফিয়া)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-মুহাম্মাদ রাকিবুল হাসান।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply