মুচকি হাসি কি সুন্নত আর দাঁত বের করে হাসা কি নিষেধ ?

প্রশ্ন:

হুজুর, আমাদের মধ্যে প্রচলিত আছে যে মুচকি হাসা সুন্নত এবং দাঁত বের করে হাসা নিষেধ। এ ব্যাপারে শরীয়তের আসল হুকুম কী? আসলেই কি মুচকি হাসি সুন্নত? আর দাঁত দেখা যায় এমনভাবে হাসা কি শরীয়তে নিষিদ্ধ, নাকি এর কোনো ভিন্ন বিধান আছে ? অনুগ্রহ করে দলিলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর:

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ

হাসি মানুষের স্বাভাবিক মুখমণ্ডলীয় প্রকাশ, যা আনন্দ, সুখ বা খুশির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যায়। ইসলামী শরীয়তে হাসির তিন স্তরের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রথম স্তর মুচকি হাসি (তাবাসসুম): এতে দাঁত প্রকাশ পায় না, কেবল মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে ওঠে। এটি উত্তম এবং নবী (ﷺ) অধিকাংশ সময় এভাবেই হাসতেন। দ্বিতীয় স্তর দাঁত দেখা হাসি (দিহক): এতে দাঁত দেখা যায়, তবে কোনো আওয়াজ হয় না। রাসূল (ﷺ) কখনো কখনো এভাবেও হাসতেন। তৃতীয় স্তর উচ্চস্বরে হাসা (কহকহা): এতে আওয়াজসহ অট্টহাসি দেওয়া হয়। ইসলামী শরীয়তে অট্টহাসি দেওয়া নিষেধ করা হয়েছে। অতএব, মুসলমানের জন্য উত্তম হলো তাবাসসুম বা মুচকি হাসা যা সুন্নত। তবে দাঁত দেখা যায় কিন্তু শব্দ হয় না, এভাবে হাসাও জায়েয আছে, তবে না হাসাই উত্তম।

وَاَنَّہٗ ہُوَ اَضۡحَکَ وَاَبۡکٰی

১.অর্থ: আর তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।
(সূরা নাজম: আয়াত নং ৪৩)

فَتَبَسَّمَ ضَاحِکًا مِّنۡ قَوۡلِہَا وَقَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَعَلٰی وَالِدَیَّ وَاَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰىہُ وَاَدۡخِلۡنِیۡ بِرَحۡمَتِکَ فِیۡ عِبَادِکَ الصّٰلِحِیۡنَ

২.অর্থ: তার কথায় সুলাইমান মুচকি হেসে দিল
এবং বলে উঠল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাওফীক দাও, যেন শুকর আদায় করতে পারি সেই সকল নি‘আমতের, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং করতে পারি এমন সৎকাজ, যা তুমি পছন্দ কর আর নিজ রহমতে তুমি আমাকে নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর। (সূরা নামল: আয়াত নং ১৯)

عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُسْتَجْمِعًا قَطُّ ضَاحِكًا حَتَّى أَرَى مِنْهُ لَهَوَاتِهِ، إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ

৩.অর্থ: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) কে কখনো এমনভাবে মুখভরে হাসতে দেখিনি যে, তার কন্ঠনালীর আলাজিভ দেখা যায়। তিনি মুচকি হাসতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৯২ হাদীসের মান: সহীহ)

فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ

৪.অর্থ: আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তার মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ল। (সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ২৭৮৬ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ المُغِيرَةِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الحَارِثِ بْنِ جَزْ قَالَ: «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

৫.অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস ইবন জায (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অধিক মুচকি হাসতে আর কাউকে আমি দেখিনি। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৪১ মিশকাতুল মাসাবীহ: হাদীস নং ৪৭৪৮ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ جَرِيرٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ مَا حَجَبَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُنْذُ أَسْلَمْتُ، وَلاَ رَآنِي إِلاَّ تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي

৬.অর্থ: জারির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি তখন থেকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তাঁর কাছে প্রবেশ করতে বাধা দেননি এবং যখনি তিনি আমার চেহারার দিকে তাকাতেন তখন তিনি মুচকি হাসতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৩৫ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
وَلاَ تُكْثِرِ الضَّحِكَ فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ

৭. অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাত্রাতিরিক্ত হাসবে না, কেননা বেশি হাস্য-কৌতুক হৃদয়কে মুর্দা বানিয়ে দেয়। (সুনানে তিরমিযী: হাদীস নং ২৩০৫ হাদীসের মান: হাসান)

وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-আনিসুজ্জামান।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *