মসজিদে ঘুমানো অবস্থায় গোসল ফরয হলে কী করবে ?

প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম! আমাকে এক মুরব্বি বললেন, মসজিদে ঘুমানো অবস্থায় গোসল ফরয হলে নাকি কাপড় বিছিয়ে তার উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে মসজিদ থেকে বের হতে হয়। সরাসরি মসজিদে পাড়া দিয়ে বের হতে হয় না এই কথা কি ঠিক ?

উত্তর:

وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ

মসজিদে ঘুমানোর পর কারো গোসল ফরয হলে সমাজে নানা রকম প্রচলিত কথা শোনা যায়। যেমন: পায়ের নিচে কাপড় বিছিয়ে বের হতে হবে কিংবা মোজা পরে বের হতে হবে। এসব ধারণা ভিত্তিহীন।
এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই খালি পায়ে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে। শুধু খেয়াল রাখতে হবে যেন মসজিদে কোনো নাপাকি না লাগে। তবে জাগ্রত হওয়ার পর মসজিদে অপেক্ষা না করে দ্রুত বের হয়ে গোসল করে নেওয়াই উত্তম। আর যদি কোনো কারণে অবস্থান করতে হয়। তাহলে আগে থেকে মাটি সংগ্রহ করে তায়াম্মুম করা যেতে পারে। অবশ্য তায়াম্মুমের হুকুম মুস্তাহাব।

اِنۡ كُنۡتُمۡ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوۡا

১.অর্থ: যদি তোমরা অপবিত্র হও তাহলে গোসল করে সমস্ত শরীর পবিত্র করে নাও। (সূরা মায়েদা: আয়াত নং ৬)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ، وَعُدِّلَتِ الصُّفُوفُ قِيَامًا، فَخَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا قَامَ فِي مُصَلاَّهُ ذَكَرَ أَنَّهُ جُنُبٌ فَقَالَ لَنَا : ” مَكَانَكُمْ “. ثُمَّ رَجَعَ فَاغْتَسَلَ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَيْنَا وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ، فَكَبَّرَ فَصَلَّيْنَا مَعَهُ

২.অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার নামাযের ইকামত দেওয়া হলে সবাই দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করছিলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন। তিনি মুসল্লায় দাঁড়ালে তাঁর মনে হল যে, তিনি জানাবাত অবস্থায় আছেন। তখন তিনি আমাদের বললেনঃ স্ব স্ব স্থানে দাঁড়িয়ে থাক। তিনি ফিরে গিয়ে গোসল করে আবার আমাদের সামনে আসলেন এবং তাঁর মাথা থেকে পানি ঝরছিল। তিনি তাকবীর (তাহরীমা) বাঁধলেন, আর আমরাও তাঁর সাথে নামায আদায় করলাম। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৫ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ مِنَ الْمَسْجِدِ ” . قَالَتْ فَقُلْتُ إِنِّي حَائِضٌ . فَقَالَ ” إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِي يَدِكِ ”

৩.অর্থ: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার আমাকে বললেন, মসজিদ থেকে আমার জায়নামাযটি (হাত বাড়িয়ে) নিয়ে এস। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি তো ঋতুবতী। তিনি বলেন, তোমার হায়েয তো তোমার হাতে নয়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৯৮ হাদীসের মান: সহীহ)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

৪.অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত । তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, গোসল ফরজ হয় বীর্যপাত দ্বারা। (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ৪৩১ হাদীসের মান: সহিহ)

وإن احتلم في المسجد تيمم للخروج إذا لم يخف وإن خاف يجلس مع التيمم ولايصلي ولايقرأ ه، وصرح في الذخيرة: أن هذا التيمم مستحب

৫.অর্থ: যদি কোন ব্যক্তির মসজিদে গোসল ফরয হয় তাহলে সে মসজিদ থেকে বের হওয়ার জন্য তাইয়াম্মুম করবে। আর যদি সে ভয় করে তাহলে তায়াম্মুম করে মসজিদে বসে থাকবে নামাযও পড়বে না কুরআন তিলাওয়াত করবে না। তায়াম্মুমের হুকুম মুস্তাহাব। (বাহারুর রায়েক: ১/২০৬)

والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে-মোঃ ইখতিয়ার হুসাইন।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *