প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম! মুফতি সাহেবের কাছে জানতে চাই, পিতা মাতার দেওয়া নামের অর্থ খারাপ হলে অথবা ইসলামিক না হলে নতুন করে নাম রাখা যাবে কি ?
উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
সন্তান জন্মের পর লালন পালন করা যেমন পিতা মাতার কর্তব্য, ঠিক তদ্রূপ সুন্দর অর্থবোধক ইসলামিক নাম চয়ন করাও পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য। সুতরাং নাম চয়ন করার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার উচিত সুন্দর অর্থবোধক ইসলামিক নাম চয়ন করা। যদি নিজে চয়ন করতে না পারে তাহলে অন্য কোনো আলেম অথবা ইসলামিক জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে নাম চয়ন করানো। কেননা নাম শুধু পরিচয় বহন করে না বরং তা মানুষের ব্যক্তিত্ব, চিন্তা-চেতনা ও রুচি-অভিরুচিরও আয়না স্বরূপ। সুন্দর নাম মন-মানসিকতার উপর প্রভাব ফেলে এবং মন্দ নামেরও কিছু না কিছু প্রভাব ব্যক্তির উপর থাকে। এই কারণে আল্লাহর নবী (ﷺ) অনেক সাহাবাদের নাম পরিবর্তন করেছেন! সুতরাং যদি কারো নামের অর্থ খারাপ হয় তাহলে সেই নাম পরিবর্তন করে নেওয়া উচিৎ ।
নতুন করে নাম রাখার জন্য আকীকা বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান করার প্রয়োজন নেই। তবে সরকারি কাগজপত্রে (জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট ইত্যাদি) নাম পরিবর্তনের জন্য কোর্টে হলফনামা করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এজন্য একজন আইনজীবী বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ ۖ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ ۚ
১.অর্থ: তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। ঈমান আনার পর তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। (সূরা হুজুরত: আয়াত নং ১১)
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُغَيِّرُ الاِسْمَ الْقَبِيحَ
২.অর্থ: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) খারাপ নাম পরিবর্তন করে (ভালো নাম রেখে) দিতেন। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৮৩৯ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم غَيَّرَ اسْمَ عَاصِيَةَ وَقَالَ ” أَنْتِ جَمِيلَةُ
৩.অর্থ: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আসিয়া (পাপিষ্ঠা) নামটি পরিবর্তন করে, বলেছিলেনঃ তুমি হলে জামীলা (সুন্দরী)। ( সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৩৯ সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৮৩৮ হাদীসের মান: সহীহ )
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” إِنَّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ
৪.অর্থ: আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন তোমাদের ডাকা হবে তোমাদের নিজ নিজ নাম ও পিতার নাম সহকারে। অতএব তোমরা ভালো নাম রাখবে।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৪৮ হাদীসের মান: হাসান)
তাহকীক: ইবনে কাইয়ুম (রহ.) বলেন, এই হাদীসের সনদ হাসান। ইরাকী ও নববী (রহ.) বলেন এর সনদ জায়্যেদ। বায়হাকী (রহ) বলেন মুরসাল। (তুহফাতুল মাউদুদ ৭৯ ফয়যুল কদীর ২/৫৫৩ আলমাজমু ৮/৪৩৬ আস-সুনানুল কুবরা ৯/৩০৬)
فكان لعمر رضي الله عنه بنت تسمى عاصية فسماها جميلة
৫.অর্থ: ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুর একজন মেয়ে ছিলেন যার নাম ছিল “আছিয়া”, কিন্তু পরবর্তীতে তার নাম দেওয়া হয় “জামিলাহ” (ফতোয়ায়ে শামী ৯/৬৮৯, মাকতাবায়ে আশরাফিয়া)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-আনিসুজ্জামান।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply