রাগের মাথায় সন্তানকে অভিশাপ দিলে কি কবুল হয় ?

প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম! মায়েরা প্রায় সময় সন্তানদের জ্বালায় বিরক্ত হয়ে তাদেরকে গালাগালি ও অভিশাপ দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে সেই অভিশাপগুলো কি কবুল হওয়ার সম্ভাবনা আছে ? দয়াকরে তাড়াতাড়ি জানাবেন।

উত্তর:

وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ.

সন্তান লালন পালন করা পিতা-মাতার জন্য আল্লাহর দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এতে ধৈর্য্য ও সহনশীলতা অপরিহার্য। রাগ, বিরক্তি বা কষ্ট থেকে সন্তানকে গালাগালি বা অভিশাপ দেওয়া বৈধ নয়। কেননা, অভিশাপ এক ধরনের বদ দু’আ, যা মা-বাবার পক্ষ থেকে দিলে কবুল হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাই রাগের সময়েও নিজের জবান ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী। অভিশাপের বদলে সন্তানদের হেদায়েত ও সংশোধনের জন্য দু’আ ও চেষ্টা করা উচিত। আশা করা যায় এতে সন্তান তাড়াতাড়ি ভালো পথে ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

وَقَضٰی رَبُّکَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِیَّاہُ وَبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ؕ اِمَّا یَبۡلُغَنَّ عِنۡدَکَ الۡکِبَرَ اَحَدُہُمَاۤ اَوۡ کِلٰہُمَا فَلَا تَقُلۡ لَّہُمَاۤ اُفٍّ وَّلَا تَنۡہَرۡہُمَا وَقُلۡ لَّہُمَا قَوۡلًا کَرِیۡمًا

১.অর্থ: তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না। পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, পিতা-মাতার কোনও একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ্ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। (সূরা বনী-ইসরাঈল: আয়াত নং ২৩)

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” لاَ تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَوْلاَدِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى خَدَمِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَمْوَالِكُمْ لاَ تُوَافِقُوا مِنَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى سَاعَةَ نَيْلٍ فِيهَا عَطَاءٌ فَيَسْتَجِيبَ لَكُمْ

২.অর্থ: জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা নিজেদেরকে অভিশাপ দিও না। তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে অভিশাপ দিও না, তোমরা তোমাদের খাদেমদেরকে বদ-দুআ করো না এবং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদের প্রতি বদ-দুআ করো না। কেননা এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে যখন দুআ (বা বদ-দুআ) করলে তা কবুল হয়ে যায়। কাজেই তোমার ঐ বদ-দুআ যেন ঐ মুহূর্তের সাথে মিলে না যায়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৫৩২ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ ثَلاَثُ دَعَوَاتٍ يُسْتَجَابُ لَهُنَّ لاَ شَكَّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ لِوَلَدِهِ

৩.অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তির দু’আ নিঃসন্দেহে কবুল করা হয়: নির্যাতিত ব্যক্তির
দু’আ, মুসাফিরের দু’আ এবং সন্তানের জন্য পিতা (মাতার) দু’আ। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং ৩৮৬২ সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৯০৫ হাদীসের মান: হাসান)

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم”‏ سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ

৪.অর্থ: আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসিকী এবং তাকে হত্যা করা কুফুরী। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ৬০৪৪ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৪ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَيَبْغَضُ الْفَاحِشَ الْبَذِيءَ

৫.অর্থ: আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা অশ্লীল এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন। (সুনানে তিরমিযী হাদীস নং ২০০৮ মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ৫০৮১ হাদীসের মান: সহীহ)

وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-মানসূরূল হক।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *