প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম! আমার প্রশ্ন হলো স্ত্রী গর্ভবতী হলে কতদিন পর্যন্ত সহবাস করা যায় ? এই ক্ষেত্রে কোনো বাঁধা নিষেধ আছে কি ? দলিলসহ জানালে খুশি হবো।
উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
হায়েয ও নেফাস ব্যতীত গর্ভধারণের সময়েও স্ত্রীর সাথে সহবাস করা শরীয়ত সম্মত এবং জায়েয। তবে এ সময় স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতি যত্নবান হওয়া স্বামীর দায়িত্ব। সহবাসের আসন ও সময়কাল এমন হওয়া উচিত যাতে স্ত্রী কষ্ট না পায় এবং উভয়ের চাহিদাও পূরণ হয়। বিশেষ করে যেসব নারীর জরায়ু দুর্বল বা যাদের গর্ভপাতের ঝুঁকি আছে। তাদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস ও শেষ মাসে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। যাতে গর্ভপাত ঘটা বা সন্তানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা না থাকে। যদি এই সময়ে সহবাস নিরাপদ ও সহজ মনে না হয় তাহলে স্বামী কিছুদিন ধৈর্য্য ধারণ করবে। অথবা এমন হালকাভাবে সংক্ষিপ্ত সময়ে সহবাস করবে যেন স্ত্রীর কষ্ট না হয় এবং স্বামীরও চাহিদা পূরণ হয়।
نِسَآؤُکُمۡ حَرۡثٌ لَّکُمۡ ۪ فَاۡتُوۡا حَرۡثَکُمۡ اَنّٰی شِئۡتُمۡ
১.অর্থ: তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার করতে পারো। (সূরা বাকারা: আয়াত নং ২২৩)
وَیَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الۡمَحِیۡضِ ؕ قُلۡ ہُوَ اَذًی ۙ فَاعۡتَزِلُوا النِّسَآءَ فِی الۡمَحِیۡضِ ۙ وَلَا تَقۡرَبُوۡہُنَّ حَتّٰی یَطۡہُرۡنَ ۚ فَاِذَا تَطَہَّرۡنَ فَاۡتُوۡہُنَّ مِنۡ حَیۡثُ اَمَرَکُمُ اللّٰہُ
২. অর্থ: লোকে আপনার কাছে হায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, তা অশুচি। সুতরাং হায়েযের সময় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থেক এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পবিত্র না হয়, ততক্ষণ তাদের কাছে যেয়ো না (অর্থাৎ সহবাস করো না)। হাঁ যখন তারা পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদের কাছে সেই পন্থায় যাবে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা বাকারা, আয়াত নং ২২২)
عَمْرِو بْنِ الْأَحْوَصِ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَع رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ. وَذَكَّرَ وَوَعَظَ ثُمَّ قَالَ اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا فَإِنَّهُنَّ عِنْدَكُمْ
৩.অর্থ: আমর ইবনে আহ্ওয়াস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বিদায় হজ্জে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করেন এবং ওয়াজ-নসীহত করেন। এরপর তিনি বলেনঃ তোমরা নারীদের সাথে উত্তম ব্যবহারের উপদেশ শুনে নাও। কেননা তারা তোমাদের নিকট আবদ্ধ আছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৮৫১ সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১৬৩ হাদীসের মান: হাসান)
عَنْ أَبِي، ذَرٍّ أَنَّ نَاسًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ قَالَ ” أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ
৪.অর্থ: আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের কয়েকজন নবী (ﷺ) কে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এতেও কি সে সওয়াব পাবে? তিনি বললেন তোমরা কি মনে করো যদি সে যৌন চাহিদা পূরণ করে হারাম পথে তাতে কি তার গোনাহ হবে না? অনুরূপভাবে যদি সে যৌন চাহিদা পূরণ করে হালাল পথে, তবে সে সওয়াব পাবে। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১০০৬ মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ১৮৯৮ হাদীসের মান: সহীহ)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে: মোহাম্মদ ইখতিয়ার হুসাইন।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply