বরকে চাপ দিয়ে সামর্থ্যের বাইরে মোহরানা ধার্য করা কি ঠিক ?

প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম! শায়েখ আমি জানতে চাই, আমার ভাইয়ের বিয়েতে সামর্থ্য না থাকা স্বত্বেও কনে পক্ষ বেশি মোহরানা দেয়ার জন্য চাপাচাপি করছে এই মোহরানা দেওয়া কি তার জন্য জরুরী ? জানালে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।

উত্তর:

وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ

ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে স্বামীর জন্য স্ত্রীকে মোহরানা পরিশোধ করা ফরয। মোহরানা মূলত স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আর্থিক অবস্থা এবং সম্মান বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হয়। মোহরানা ধার্য করে বিয়ে হয়ে গেলে উক্ত মোহরানা স্বামীকে অবশ্যই আদায় করতে হবে। একসঙ্গে আদায় করা সম্ভব না হলে ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে আদায় করবে। আদায়ের ক্ষেত্রে অবহেলা করে বা ইচ্ছা করে আদায় না করলে মারাত্মক গোনাহ হবে। যদি কোনো বিয়েতে স্বামীর সামর্থ্যের চেয়ে বেশি মোহর নির্ধারণ করা হয়। আর স্বামী সেই মোহর দিতে অক্ষম হয়। তাহলে তার করণীয় হলো যতটুকু সম্ভব আদায় করবে। এরপর যতটুকু আদায়ের সামর্থ্য থাকবে না ততটুকু মাফ চেয়ে নিবে। এক্ষেত্রে স্ত্রী যদি খুশি মনে মাফ করে দেয় তাহলে তা মাফ হয়ে যাবে। কিন্তু স্ত্রীকে চাপ দিয়ে মাফ করালে তা মাফ হবে না। ইসলামী শরীয়তে যৌতুক নেয়া যেমন বৈধ নয়। তেমনি বরপক্ষকেও সামর্থ্যের চেয়ে বেশি মোহর দেয়ার জন্য চাপাচাপি করাও উচিত নয়।

وَاٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِہِنَّ نِحۡلَۃً ؕ فَاِنۡ طِبۡنَ لَکُمۡ عَنۡ شَیۡءٍ مِّنۡہُ نَفۡسًا فَکُلُوۡہُ ہَنِیۡٓــًٔا مَّرِیۡٓــًٔا

১.অর্থ: তোমরা স্ত্রীদেরকে খুশী মনে তাদের মোহর দিয়ে দাও। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তাহলে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করতে পারো। (সূরা নিসা: আয়াত নং ৪)

وَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا تَرٰضَیۡتُمۡ بِہٖ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡفَرِیۡضَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا

২.অর্থ: অবশ্য (মোহর) ধার্য করার পরও তোমরা পরস্পরে যেই (কম-বেশি করা) সম্পর্কে সম্মত হবে, তাতে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা নিসা: আয়াত নং ২৪)

یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَحۡلَلۡنَا لَکَ اَزۡوَاجَکَ الّٰتِیۡۤ اٰتَیۡتَ اُجُوۡرَہُنَّ

৩.অর্থ: হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। (সূরা আহ্‌যাব: আয়াত নং ৫০)

وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ

৪.অর্থ: তোমাদের জন্যে বৈধ করা হলো সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে তোমাদের পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান করো বিবাহের জন্যে। (সূরা মায়িদা আয়াত নং ৫)

وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ

উত্তর প্রদানে-লিয়াকত আলী শেখ।

শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।

পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *