প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম! মুফতি সাহেবের কাছে জানতে চাই, জেলে স্বামীর ফাঁসির রায় হয়ে গেলে। স্ত্রী ইচ্ছা করলে কি সাথে সাথে ছেলে মেয়ে ও নিজের সুখের জন্য অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবেন ?
উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
স্বামীর ফাঁসি কার্যকর হলে স্ত্রীকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে, এরপর তিনি অন্যত্র বিবাহ করতে পারবেন। আর যদি স্বামী ফাঁসির রায়ের আগে স্ত্রীকে তালাক দেন বা তালাকের অধিকার প্রদান করেন। অতঃপর স্ত্রী স্বামী কর্তৃক প্রাপ্ত অধিকার বলে নিজের উপর তালাক গ্ৰহণ করেন এবং ইদ্দত (তিন হায়েজ) সম্পন্ন করে ফেলেন। তাহলে সেক্ষেত্রেও তিনি অন্যত্র বিয়ে করতে পারবেন। অতএব, মৃত্যু বা তালাক যে কোনো অবস্থাতেই ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন বিবাহ বৈধ নয়। যদি ইদ্দত শেষ না করেই কেউ অন্যত্র বিবাহ করে ফেলে তাহলে ঐ বিবাহ সহীহ হবে না। তবে ইদ্দত পালনরত অবস্থায় তাকে ইশারা ইঙ্গিতে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া জায়েয আছে।
وَّالۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ۚ کِتٰبَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ ۚ
১. অর্থ: সেই সকল নারীও (তোমাদের জন্য হারাম), যারা অন্য স্বামীদের বিবাহাধীন আছে। তবে যে দাসীরা তোমাদের মালিকানায় এসে গেছে, (তারা ব্যতিক্রম)। এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহর বিধান।(সূরা নিসা: আয়াত নং ২৪)
وَالَّذِیۡنَ یُتَوَفَّوۡنَ مِنۡکُمۡ وَیَذَرُوۡنَ اَزۡوَاجًا یَّتَرَبَّصۡنَ بِاَنۡفُسِہِنَّ اَرۡبَعَۃَ اَشۡہُرٍ وَّعَشۡرًا ۚ فَاِذَا بَلَغۡنَ اَجَلَہُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا فَعَلۡنَ فِیۡۤ اَنۡفُسِہِنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ
২.অর্থ: তোমাদের মধ্যে যারা মারা যায় ও স্ত্রী রেখে যায়। তাদের সে স্ত্রীগণ নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় রাখবে। অতঃপর তারা যখন নিজ ইদ্দত (এর মেয়াদ)-এ পৌঁছে যাবে। তখন তারা নিজেদের ব্যাপারে ন্যায়সম্মতভাবে যা কিছু করবে (যেমন দ্বিতীয় বিবাহ) তাতে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।(সূরা বাকারা: আয়াত নং ২৩৪)
وَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا عَرَّضۡتُمۡ بِہٖ مِنۡ خِطۡبَۃِ النِّسَآءِ اَوۡ اَکۡنَنۡتُمۡ فِیۡۤ اَنۡفُسِکُمۡ
৩.অর্থ: আর (ইদ্দতের ভেতরে) তোমরা যদি নারীদের কে ইশারা-ইঙ্গিতে বিবাহের প্রস্তাব দাও অথবা (তাদেরকে বিবাহ করার ইচ্ছা) নিজ অন্তরে গোপন রাখ, তবে তাতে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই। (সূরা: বাকারা: আয়াত নং ২৩৫)
وَلَا تَعۡزِمُوۡا عُقۡدَۃَ النِّکَاحِ حَتّٰی یَبۡلُغَ الۡکِتٰبُ اَجَلَہٗ
৪.অর্থ: আর ইদ্দতের নির্দিষ্ট সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহকার্য সম্পন্ন করার ইচ্ছা করো না। (সূরা বাকারা: আয়াত নং ২৩৫)
ومنها أن لا تكون منكوحة الغير، لقوله تعالى: {والمحصنات من النساء}. (كتاب النكاح، فصل أن لا تكون منكوحة)
৫.অর্থ: নিকাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে স্ত্রী অপরজনের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হতে হবে।
(বাদাইউস সানায়ে: ৫৪৮/২ মাকতাবায়ে জাকারিয়া)
لا يجوز للرجل أن يتزوج زوجة غيره وكذلك المعتدة.”
(كتاب النكاح، الباب الثالث في بيان المحرمات، القسم السادس المحرمات التي يتعلق بها حق الغير)
৬. অর্থ: কোন পুরুষের জন্য জায়েয নেই যে, অন্যের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ স্ত্রীকে বিবাহ করা। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৩৪৬/১ মাকতাবায়ে আশরাফিয়া)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-মাহদী হাসান।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply