স্ত্রী ইচ্ছা করলে স্বামীকে তালাক দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম! শায়েখ আশাকরি আপনি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমার প্রশ্ন হলো
স্ত্রী ইচ্ছা করলে কি তার স্বামীকে তালাক দিতে পারেন ? অনুগ্রহ করে দলিলসহ জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর:

وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ

ইসলামী শরীয়তে তালাক হচ্ছে সবচাইতে নিকৃষ্টতম হালাল কাজ। কিন্তু প্রয়োজন সাপেক্ষে শরীয়ত এই তালাকের ক্ষমতা একমাত্র স্বামীকেই দিয়েছে। সুতরাং স্ত্রী যদি স্বামীকে তালাক প্রদান করে তাহলে সে তালাক কার্যকর হবে না। তবে স্ত্রী যে কোনো সময়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাবার অধিকার রাখে। যাকে ইসলামী শরীয়তে খোলা বলে। এ সময় স্ত্রী তার মোহরানা স্বামীকে ফেরত দিয়ে তালাক চেয়ে নিবে। অথবা স্বামী যদি স্ত্রীকে তার নিজের উপর তালাক গ্রহণ করার ক্ষমতা দিয়ে থাকে। তাহলে স্বামীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ক্ষমতা বলেও নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারবে।

فَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا یُقِیۡمَا حُدُوۡدَ اللّٰہِ ۙ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡہِمَا فِیۡمَا افۡتَدَتۡ بِہٖ

১.অর্থ: অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা (বিবাহ বহাল রাখা অবস্থায়) উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না। তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। (সূরা বাকারা: আয়াত নং ২২৯)

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّلَ اللّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُواْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ

২.অর্থ: পুরুষরা নারীদের অভিভাবক, এ কারণে যে আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে তাদের জন্য ব্যয় করে থাকে। (সূরা নিসা: আয়াত নং ৩৪)

لَّا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ

৩.অর্থ: তোমাদের কোনো গোনাহ নেই যে, তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিবে। (সূরা বাকারা: আয়াত নং ২৩৬)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ امْرَأَةَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ، مَا أَعْتِبُ عَلَيْهِ فِي خُلُقٍ وَلاَ دِينٍ، وَلَكِنِّي أَكْرَهُ الكُفْرَ فِي الإِسْلاَمِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَرُدِّينَ عَلَيْهِ حَدِيقَتَهُ؟» قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْبَلِ الحَدِيقَةَ وَطَلِّقْهَا تَطْلِيقَةً»

৪.অর্থ: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, সাবিত ইবনে কায়েস এর স্ত্রী নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে বললঃ ইয়া রসূলাল্লাহ! চারিত্রিক বা ধর্মীয় বিষয়ে সাবিত ইবনে কায়েসের উপর আমি কোন দোষারোপ করছি না। তবে আমি ইসলামে থেকে কুফরী করা (অর্থাৎ স্বামীর সাথে অমিল) পছন্দ করছি না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি তার বাগানটি ফিরিয়ে দেবে? মহিলা উত্তর দিনঃ হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি বাগানটি নিয়ে তাকে (মহিলাকে) তালাক দিয়ে দাও। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২৭৩ মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ৩২৭৪ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ سَيِّدِي زَوَّجَنِي أَمَتَهُ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا قَالَ فَصَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يُزَوِّجُ عَبْدَهُ أَمَتَهُ ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا الطَّلَاقُ لِمَنْ أَخَذَ بِالسَّاقِ

৫.অর্থ: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললোঃ ইয়া রসূলাল্লাহ (ﷺ) ! আমার মনিব আমার কাছে তার বাঁদীকে বিয়ে দিয়েছিল। এখন সে আমার ও আমার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরে আরহণ করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন যে, তার গোলামের কাছে নিজের বাঁদীকে বিয়ে দেয় এবং পরে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে চায় ? তালাকের অধিকার তো কেবল তারই, যে মহিলাকে স্পর্শ করার অধিকার রাখে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২০৮১ হাদীসের মান: হাসান)

ومحله المنكوحة واهله زوج عاقل بالغ مستيقظ

৬.অর্থ: তালাকের স্থান হচ্ছে বিবাহিতা স্ত্রী,আর তালাকের অধিকারী হচ্ছে জ্ঞানবান বালেগ ও জাগ্রত স্বামী। ( অর্থাৎ পাগল স্বামী, ঘুমন্ত স্বামী, ও নাবালেক স্বামীর তালাক পতিত হবে না।) [ফতোয়ায়ে শামী: ৪/৪১৯ মাকতাবায়ে আশরাফিয়া]

وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-আবু সাঈদ।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *