প্রশ্ন:
শ্বশুর ও শাশুড়িকে কি “আব্বা” ও “আম্মা” বলে সম্বোধন করা শরীয়তসম্মত? ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে এভাবে ডাকা জায়েয কি না ?
উত্তর:
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ.
বংশপরিচয় গোপন করে অন্য কাউকে আব্বা বা আম্মা বলে ডাকা হারাম। তবে শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বা ও আম্মা বলে ডাকার মাঝে বংশপরিচয় গোপন করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; বরং তা হয় সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশস্বরূপ। তাই তাদেরকে আব্ব-আম্মা বলে ডাকতে কোনো সমস্যা নেই। তবে কেউ যদি নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজ পিতা-মাতার জায়গায় স্থান দেয়, তাহলে সেটা হারাম হবে। একইভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন বা এমন কোনো নথিতে যেখানে জন্মদাতা পিতার নাম উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, সেখানে অন্য কারোর নাম লিখলে তাও হারাম হবে। সারকথা, শুধুমাত্র সম্মান ও সৌজন্যের উদ্দেশ্যে স্ত্রীর পিতা-মাতাকে বা স্বামীর পিতা-মাতাকে আব্বা ও আম্মা বলে ডাকা জায়েয এবং এতে কোনো দোষ নেই।
اُدۡعُوۡہُمۡ لِاٰبَآئِہِمۡ ہُوَ اَقۡسَطُ عِنۡدَ اللّٰہِ ۚ فَاِنۡ لَّمۡ تَعۡلَمُوۡۤا اٰبَآءَہُمۡ فَاِخۡوَانُکُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَمَوَالِیۡکُمۡ ؕ وَلَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ جُنَاحٌ فِیۡمَا اَخۡطَاۡتُمۡ بِہٖ ۙ وَلٰکِنۡ مَّا تَعَمَّدَتۡ قُلُوۡبُکُمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
১.অর্থ: তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব: আয়াত নং ৫)
عَنْ سَعْدٍ، وَأَبِي، بَكْرَةَ كِلاَهُمَا يَقُولُ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ، وَوَعَاهُ، قَلْبِي مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم يَقُولُ”مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ
২.অর্থ: সা’দ ও আবু বাকরা (রাযিঃ) উভয় থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা প্রত্যেকে বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) থেকে আমার দুই কান শুনেছে এবং আমার অন্তর স্মরণ রেখেছে যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আপন পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবি করে, অথচ সে জানে যে সে তার পিতা নয়, তার উপর জান্নাত হারাম। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৭৬৬ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৩ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ أَبِي ذَرٍّ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ” لَيْسَ مِنْ رَجُلٍ ادَّعَى لِغَيْرِ أَبِيهِ وَهْوَ يَعْلَمُهُ إِلاَّ كَفَرَ، وَمَنِ ادَّعَى قَوْمًا لَيْسَ لَهُ فِيهِمْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
৩.অর্থ: আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ)- কে বলতে শুনেছেন, কোন ব্যক্তি যদি নিজ পিতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও অন্য কাউকে তার পিতা বলে দাবী করে তবে সে আল্লাহর (নিয়ামতের) কুফরী করল এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সাথে বংশ সম্পৃক্ততার দাবী করল, যে বংশের সাথে তার কোন বংশ সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে তৈরী করে নেয়। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৫০৮ হাদীসের মান: সহীহ)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-লিয়াকত আলী শেখ।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply