প্রশ্ন:
কেউ যদি রোযা রেখে গোনাহের কাজ করে, যেমন মিথ্যা বলা, গীবত করা বা অন্য কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে তার রোযা কি আদায় হবে ?
উত্তর:
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
রোযা রেখে মিথ্যা বলা, গীবত করা বা অন্য কোনো গোনাহ করা মারাত্মক অপরাধ এবং রোযার রূহানিয়্যাত নষ্ট করে দেয়। এসব কারণে রোযার সওয়াব কমে যায় ও রোযা মাকরূহ হয়ে যায়, তবে রোযা ভঙ্গ হয় না। তাই রোযার পূর্ণ সওয়াব পেতে হলে শুধু খাওয়া-দাওয়া নয়, বরং মিথ্যা, গীবতসহ সব গোনাহ থেকেও বিরত থাকা জরুরী। আর রমযান মাস হোক বা অন্য মাস, সর্বাবস্থায় সকল গোনাহ থেকে দূরে থাকা একজন মুসলমানের জন্য আবশ্যক।
وَّلَا تَجَسَّسُوۡا وَلَا یَغۡتَبۡ بَّعۡضُکُمۡ بَعۡضًا
১.অর্থ: তোমরা কারও গোপন ত্রুটির অনুসন্ধানে পড়বে না এবং তোমাদের একে অন্যের গীবত করবে না। (সূরা হুজরত: আয়াত নং ১২)
إِنَّ الله َ لَايَهْدِيْ مَنْ هُوَ مُسْرِف كَذَّاب
২. অর্থ: আল্লাহ কোন সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যুককে সৎ পথে পরিচালিত করেন না। (সূরা আল মুমিন: আয়াত নং ২৮)
وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ
৩.অর্থ: আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখে তখন সে যেন অশালীন কথাবার্তা না বলে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৯০৪ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
৪.অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও গোনাহের কাজ বর্জন করেনি, তাঁর এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯০৩ হাদীসের মান: সহীহ)
او اغتاب من الغيبه
৫.অর্থ: অথবা যদি গীবত করে তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে না। (ফতোয়ায়ে শামী: ৩/৪২৮ আশরাফিয়া)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-মোঃ আব্দুল মালেক।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply