রাগ করে কতদিন পর্যন্ত কথা বলা বন্ধ রাখা জায়েয ?

প্রশ্ন:

কোনো কারণে রাগ বা মনোমালিন্য হলে একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের সাথে কতদিন পর্যন্ত কথা বলা বন্ধ রাখতে পারবে? বেশি দিন কথা বলা বন্ধ রাখা কি শরীয়তে জায়েয হবে ?

উত্তর:

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ

কোনো মুসলমান ভাইয়ের সাথে রাগ বা অভিমানে স্থায়ীভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করা ইসলামে হারাম। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত কথা বন্ধ রাখা যেতে পারে, এর বেশি করা নাজায়েয। তবে যদি দ্বীনি কোনো প্রয়োজন থাকে যেমন কারো অনিষ্ট থেকে বাঁচা, তাকে সংশোধন করা, বা পাপ থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কথা বন্ধ রাখা হয় তাহলে তা শরীয়তে জায়েয।

الَّذِیۡنَ یَنۡقُضُوۡنَ عَہۡدَ اللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ مِیۡثَاقِہٖ ۪ وَیَقۡطَعُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰہُ بِہٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ وَیُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ

১.অর্থ: সেই সকল লোক, যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতিকে পরিপক্ক করার পরও ভেঙ্গে ফেলে এবং আল্লাহ যেই সম্পর্ককে যুক্ত রাখতে আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে। বস্তুত এমন সব লোকই অতি ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরা বাকারা: আয়াত নং ২৭)

عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” لاَ يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ، يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلاَمِ ”

২.অর্থ: আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য হালাল নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি এমনভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে যে, দু’জনে সাক্ষাত হলেও একজন এদিকে আর অপরজন সেদিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাদের মধ্যে যে সর্বপ্রথম সালামের সূচনা করবে, সেই উত্তম ব্যক্তি। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৭৭ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” لاَ تَبَاغَضُوا وَلاَ تَحَاسَدُوا وَلاَ تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ ” .

৩.অর্থ: আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ, শক্রতা ও পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করো না, বরং তোমরা আল্লাহর বান্দায় পরিণত হও এবং পরম্পর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আব্দ্ধ হয়ে যাও। আর কোন মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন রাতের অধিক সময় সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন রাখে। (সুনানে আবু দাউদ: হাদীস নং ৪৯১০ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ : لقيتُ رسولَ اللهِ ﷺ فأخذتُ بيده فقلتُ: يا رسولَ اللهِ أخبرني بفواضلِ الأعمالِ؟ فقال: صِلْ من قطعَكَ وأعطِ من حرمكَ وأعرضْ عمن

৪.অর্থ: উকবা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তার হাত ধরে বলি হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমাকে উত্তম আমলসমূহের সুসংবাদ দিন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে ‘উকবা। যে তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইবে, তুমি তার সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখবে, যে তোমাকে বঞ্চিত করবে, তুমি তাকে দান করবে, আর যে তোমার প্রতি যুলম করবে, তুমি তাকে ক্ষমা করে দেবে। (মুসনাদে আহমদ: হাদীস নং ৩৪ হাদীসের মান: হাসান)

وصلة الرحم واجبة ولو كانت بسلام وتحية وهدية

৫. অর্থ: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ওয়াজিব, যদিও তা সালামের মাধ্যমে হয় অথবা হাদিয়া দেওয়ার মাধ্যমে হয়। (ফতোয়ে শামী:৯/৪১১ মাকতাবায়ে আশরাফিয়া)

৬. রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাবুক যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে পড়া তিন সাহাবীর সঙ্গে ৫০ দিন কথা বন্ধ রাখার অনুমতি দেন। অতঃপর আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন এবং সাহাবীরা তাদের সঙ্গে আগের মতোই সদ্ব্যবহার করেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) তার ছেলে বেলালের সাথে হাদীস প্রত্যাখ্যান করার কারণে আজীবন কথা বন্ধ রেখেছিলেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৪১৮ মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ১০৮৪ হাদীসের মান: সহীহ)

وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে-মোহাম্মদ মাহদী হাসান।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *