বদ নজর থেকে বাঁচানোর জন্য বাচ্চাদের কপালে টিপ দেওয়া যাবে কি ? 

প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম! মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশে অনেকেই বদনজর থেকে বাঁচার জন্য শিশু বাচ্চাদের কপালে কাজল বা পাতিলের কালি দিয়ে থাকে এটা কি জায়েয আছে ? এর দ্বারা কি সত্যিই বদনজর থেকে বাঁচা যায় ?

উত্তর:

وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ

বদনজর থেকে বাঁচার জন্য বাচ্চাদের কপালে টিপ দেওয়া অথবা পাতিলের কালি গোলাকার করে দেওয়া কুসংস্কার। কেউ যদি মনে করে কালো টিপ বদনজর থেকে রক্ষা করে তাহলে সে গোনাহগার হবে। তবে বদনজর বা কুদৃষ্টি লাগা সত্য। কিন্তু কপালে টিপ দেওয়া বদনজর রোধ করে না। বদনজর থেকে বাচ্চাদের কিভাবে রক্ষা করতে হবে সে সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীসে আমল পাওয়া যায়। যেমন: আয়াতুল কুরসী, তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) এবং হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দু’আ পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়া। সুতরাং বদনজর থেকে বাঁচতে টিপ না দিয়ে হাদীসে বর্ণিত আমলগুলো করা উচিত।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «العَيْنُ حَقٌّ» وَنَهَى عَنِ الوَشْمِ

১.অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চোখলাগা (বদনযর) বাস্তব সত্য এবং তিনি উল্কি উৎকীর্ণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৪৪, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৮৭৯ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُبَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ: خَرَجْنَا فِي لَيْلَةِ مَطَرٍ، وَظُلْمَةٍ شَدِيدَةٍ، نَطْلُبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُصَلِّيَ لَنَا، فَأَدْرَكْنَاهُ، فَقَالَ: أَصَلَّيْتُمْ؟ فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا، فَقَالَ: قُلْ فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا، ثُمَّ قَالَ: قُلْ فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا، ثُمَّ قَالَ: قُلْ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَقُولُ؟ قَالَ: قُلْ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُمْسِي، وَحِينَ تُصْبِحُ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ

২.অর্থ: মু’আয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনু খুবাইব (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বর্ষণমুখর খুবই অন্ধকার কালো রাতে আমাদের নামায পড়ার জন্য আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে খুঁজছিলাম। আমরা তাঁকে পেয়ে গেলাম। তিনি বললেনঃ বলো। আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় তিনি বললেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেনঃ বলো। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কি বলবো? তিনি বললেনঃ তুমি সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে তিনবার সূরা কুল হুয়াল্লাহু (সূরা ইখলাস), সূরা নাস ও ফালাক পড়বে; এতে তুমি যাবতীয় অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাবে। (সুনান আবু দাউদ হাদীস নং ৫০৮২ সুনানে তিরমিযী হাদীস নং ৩৫৭৫ হাদীসের মান: হাসান)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ يَقُولُ ‏”‏ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ ‏”‏

৩.অর্থ: ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর ঝাড়ফুঁক দিতেন, বলতেনঃ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কল্যাণময় বাক্যাবলির ওয়াসীলায় প্রতিটি শয়তান, প্রাণনাশী বিষাক্ত জীব ও অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৫২৫ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَتَعَوَّذُ مِنْ عَيْنِ الْجَانِّ وَأَعْيُنِ الإِنْسِ فَلَمَّا نَزَلَتِ الْمُعَوِّذَتَانِ أَخَذَهُمَا وَتَرَكَ مَا سِوَى ذَلِكَ ‏.‏

৪.অর্থ: আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে জ্বিনের বদ-নযর ওপরে মানুষের বদ-নযর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় চাইতেন। অতঃপর যখন মুআওওয়াযাতায়ন সূরাদ্বয় (সূরা ফালাক ও নাস) নাযিল হলো, তখন তিনি এ দু’টো গ্রহণ করলেন এবং অন্য সব ছেড়ে দিলেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৫১১ সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২০৫৮ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” الْعَيْنُ حَقٌّ وَلَوْ كَانَ شَىْءٌ سَابَقَ الْقَدَرَ سَبَقَتْهُ الْعَيْنُ

৫.অর্থ: ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ ‘বদ নযর (এর প্রতিক্রিয়া) বাস্তব। তাকদীরকে অতিক্রমকারী কোন কিছু যদি থাকত, তাহল ’বদ নযর’ অবশ্যই তাকে অতিক্রম করতে পারত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৮৮ হাদীসের মান: সহীহ)

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” لاَ رُقْيَةَ إِلاَّ مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ

৬.অর্থ: ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ঝাড়- ফুঁক তো কেবল বদ-নজর এবং বিষাক্ত জীবের (বিষ নষ্ট করার) জন্য। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৮৪৪ হাদীসের মান: সহীহ)

وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ

উত্তর প্রদানে-মোঃ আব্দুল কাদের।

শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।

পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *