প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম! শায়েখ আমাদের গ্ৰামের অনেক মানুষ ফাতেমা (রা.) এর নাম বলার সময় মা ফাতেমা বলেন। এভাবে ফাতেমা (রা.) এর নামের শুরুতে মা বলা কি ঠিক ? দলিলসহ জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
হযরত ফাতেমা (রা.) হলেন রাসূল (ﷺ) এর সবচেয়ে প্রিয় কন্যা এবং জান্নাতি নারীদের সর্দারনী। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাশীল। তার সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে কুরআন ও হাদীসে কোথাও তাকে মুমিনদের “মা” বলে সম্বোধন করা হয়নি। বরং কুরআনে আল্লাহ তা’আলা রাসূল (ﷺ) এর স্ত্রীদেরকে মুমিনদের মা হিসাবে সম্বোধন করেছেন। সুতরাং যারা আমাদের “মা” তাদের কোনো কন্যাকে “মা” বলে সম্বোধন করা যাবে না। এই মর্যাদা শুধু রাসূল (ﷺ)-এর স্ত্রীদের জন্য। তাই ফাতেমা (রা.) কে সম্মান জানানোর জন্য ফাতেমা (রা.) অথবা হযরত ফাতেমা (রা.) বলাই উত্তম।
উল্লেখ্য যদি রাসূল (ﷺ) এর কন্যাগণ মুমিনদের মা হতেন তাহলে এই উম্মতের কারো জন্য তাঁদেরকে বিয়ে করা জায়েয হতো না। যেমনটি বিয়ে করা হারাম ছিল রাসূল (ﷺ) এর স্ত্রীদেরকে। অথচ আলী (রা.) উসমান (রা.) রাসূল (ﷺ) মেয়েদেরকে বিয়ে করেছেন। এতেই স্পষ্ট প্রমাণিত হয়ে যায় রাসূল (ﷺ) এর কোনো মেয়েকে “মা” বলে সম্বোধন করা যাবে না।
اَلنَّبِیُّ اَوۡلٰی بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ مِنۡ اَنۡفُسِہِمۡ وَاَزۡوَاجُہٗۤ اُمَّہٰتُہُمۡ
১.অর্থ: নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা। (সূরা আহ্যাব: আয়াত নং ৬)
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَاطِمَةُ سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ
২.অর্থ: নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন, ফাতিমা (রা.) জান্নাতবাসী মহিলাদের সর্দারনী। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৭৬৭ হাদীসের মান: সহীহ)
فَقَالَ أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ ـ أَوْ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ فَضَحِكْتُ لِذَلِكَ.
৩.অর্থ: ফাতিমা (রা.) বলেন, নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন, হে ফাতিমা! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি মুমিন নারীদের, কিংবা তিনি বলেছিলেন, তুমি এ উম্মতের নারীদের নেত্রী হবে ? এ কথায় আমি হেসে দিলাম, যে হাসি আপনি (আয়েশা রা.) দেখেছেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৬২৩, সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস নং ১৬২১ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنِ المِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي، فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِي
৪.অর্থ: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফাতিমা আমার (শরীরের) অংশ। যে তাঁকে অসন্তুষ্ট করল সে আমাকেই অসন্তুষ্ট করল। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৭৬৭ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ جُمَيْعِ بْنِ عُمَيْرٍ التَّيْمِيِّ، قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ عَمَّتِي عَلَى عَائِشَةَ فَسُئِلَتْ أَيُّ النَّاسِ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “؟ قَالَتْ: فَاطِمَةُ
৫.অর্থ: জুমায়্যি ইবনে উমাইর আত-তাইমী (রহ.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আমার ফুফুর সাথে আয়েশা (রা.)-এর নিকট গেলাম। তখন তাকে প্রশ্ন করা হল, কোন মানুষটি রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে সবচাইতে প্রিয় ? তিনি বললেন, ফাতিমা (রা.)। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৮৭৪ হাদীসের মান: হাসান)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ بالصواب
উত্তর প্রদানে: মুহাম্মদ মেরাজুল ইসলাম।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply