কঠোর পরিশ্রম এর কাজ করলে রোযা না রাখার সুযোগ আছে কি ? 

প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম! আমি একজন শ্রমিক বিভিন্ন ভারি কাজ আমার করতে হয়। এখন আমার প্রশ্ন হলো, কঠোর পরিশ্রম এর কাজ করলে রমযান মাসে রোযা না রাখার সুযোগ আছে কি ? মেহেরবানী করে দলিলসহ জানালে খুশি হবো।

উত্তর:

وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ

রোযা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। যা আল্লাহ তা’আলা আমাদের কষ্ট লাগব করে সারা বছরের মধ্যে শুধু রমযান মাসে ফরয করেছেন। রমযানের একটি রোযার মর্যাদা অন্যান্য মাসের রোযার চেয়ে অনেক বেশি। তাই যে সকল শ্রমিক সাধারণত বিভিন্ন ভারি কাজ করে থাকেন। তাদের উচিত হলো রমযানের আগেই নিজের ও পরিবারের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ সঞ্চয় করে রাখা। যাতে রমযান মাসে ভারি কাজগুলো পরিহার করা যায়। অথবা রমযানে অর্ধদিবস কাজ করে বাকি সময় বিশ্রাম করা যায়। এতে পরিশ্রম কমে যাবে, আবার রোযা রাখাও সহজ হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, পরিশ্রমের অজুহাতে রোযা ছাড়ার অবকাশ নেই। তবে নিজের কাছে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে সম্পদ না থাকে এবং ভারি কাজ ব্যতীত অন্য কাজের ব্যবস্থা না হয়। অতঃপর ঐ ভারি কাজের কারণে যদি শারীরিক ক্ষতির ভয়ে রোযা ছাড়তে বাধ্য হয়। তাহলে ঐ দিনের রোযা না রাখার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তা কাযা আদায় করে নিতে হবে। কোনভাবেই রোযা একদম ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ ۙ

১.অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকারা: আয়াত নং ১৮৩)

فَمَنۡ شَہِدَ مِنۡکُمُ الشَّہۡرَ فَلۡیَصُمۡہُ ؕ وَمَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ

২.অর্থ: সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন এ সময় অবশ্যই রোযা রাখে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনে সে সমান সংখ্যা কাযা আদায় করবে। (সূরা বাকারা: আয়াত নং ১৮৫)

عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَائِرَ الرَّأْسِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي مَاذَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ مِنَ الصَّلاَةِ؟ فَقَالَ: «الصَّلَوَاتِ الخَمْسَ إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ شَيْئًا» ، فَقَالَ: أَخْبِرْنِي مَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ مِنَ الصِّيَامِ؟ فَقَالَ: «شَهْرَ رَمَضَانَ إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ شَيْئًا»

৩.অর্থ: তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এলোমেলো চুলসহ একজন গ্রাম্য আরব রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলেন। তারপর বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমাকে বলুন, আল্লাহ তাআলা আমার উপর কত নামায ফরজ করেছেন? তিনি বলেনঃ পাঁচ (ওয়াক্ত) নামায; তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর তা স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন, বলুন, আমার উপর কত রোযা আল্লাহ তাআলা ফরয করেছেন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ রমযান মাসের রোযা; তবে তুমি যদি কিছু নফল রোযা আদায় কর তবে তা স্বতন্ত্র কথা। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৯১ হাদীসের মান: সহীহ)

لا يجوز ان يعمل عملا يصل به الي الضعف فيخبز نصف النهار و يستريح الباقي …

৪.অর্থ: রমযান মাসে রোযাদার ব্যক্তির জন্য এমন কোনো কাজ করা বৈধ হবে না। যার দ্বারা সে দুর্বল হয়ে রোযা রাখতে অক্ষম হয়ে পড়ে। অতএব, সে অর্ধদিবস কাজ করবে, আর অর্ধদিবস বিশ্রাম করবে।…. (দুররুল মুখতার মাআ রদ্দিল মুহতার খ. ৩ পৃ. ৪৬০, মাকতাবায়ে আশ্রাফিয়া, দেওবন্দ)

وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ

উত্তর প্রদানে-মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।

পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *