প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম! মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই, একা একা পশু পাখি জবাই করা জায়েয আছে কি? কেউ কেউ বলেন একাধিক ব্যক্তি মিলে জবাই করতে হয় এই কথা কি ঠিক ?
উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيََا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
পশু পাখি জবাই করার জন্য একাধিক ব্যক্তি হওয়া জরুরী নয়, একজনও জবাই করতে পারবে। জবাই সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, জবাইকারী সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলমান হওয়া। জবাইয়ের সময় আল্লাহ তা’আলার নাম উচ্চারণ করে জবাই করা এবং পশুর রগগুলো কাটা। সুতরাং একজন ব্যক্তি যদি জবাইয়ের উক্ত শর্তগুলো পূরণ করতে পারে। তাহলে তার জবাই করা পশু পাখি খাওয়া হালাল হয়ে যাবে। এই ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি হওয়া আবশ্যক নয়। উল্লেখ্য ভুলবশত বিসমিল্লাহ না পড়ে জবাই করলে জবাইকৃত পশু পাখি খাওয়া হারাম হয়ে যায় না। কিন্তু ইচ্ছাকৃত বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিলে সেই পশু পাখি খাওয়া হারাম হয়ে যায়। (বাদায়েয়ুস সানায়ে খ. ৪ পৃ. ১৮৯, যাকারিয়া বুক ডিপো দেওবন্দ, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া খ. ৫ পৃ. ৩৩২, মাকতাবায়ে আশ্রাফিয়া দেওবন্দ)
فَكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كُنتُم بِآيَاتِهِ مُؤْمِنِينَ
১. অতঃপর যে জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, তা থেকে ভক্ষণ কর যদি তোমরা তাঁর বিধানসমূহে বিশ্বাসী হয়ে থাকো। (সূরা আনআম: আয়াত নং ১১৮)
وَلَا تَاۡکُلُوۡا مِمَّا لَمۡ یُذۡکَرِ اسۡمُ اللّٰہِ عَلَیۡہِ وَاِنَّہٗ لَفِسۡقٌ
২. অর্থ: যে জন্তুর উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, তা থেকে খেও না। এরূপ করা কঠিন গোনাহ। (সূরা আনআম: আয়াত নং ১২১)
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: ضَحَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ، ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ، وَسَمَّى وَكَبَّرَ، وَوَضَعَ رِجْلَهُ عَلَى صِفَاحِهِمَا
৩.অর্থ: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) দু’টি সাদা-কালো বর্ণের শিং বিশিষ্ট ভেড়া কুরবানী করেন। তিনি ভেড়া দু’টির পার্শ্বদেশে তার কদম মুবারক স্থাপন করে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে নিজ হাতেই সেই দু’টিকে যবেহ করেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫৬৫ সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৯৬৬ হাদীসের মান: সহীহ)
(ﺫﺑﺤﻬﻤﺎ ﺑﻴﺪﻩ) ﻓﻴﻪ ﺃﻧﻪ ﻳﺴﺘﺤﺐ ﺃﻥ ﻳﺘﻮﻟﻰ اﻻﻧﺴﺎﻥ ﺫﺑﺢ ﺃﺿﺤﻴﺘﻪ ﺑﻨﻔﺴﻪ ﻭﻻﻳﻮﻛﻞ ﻓﻰ ﺫﺑﺤﻬﺎ اﻻﻟﻌﺬﺭ ﻭﺣﻴﻨﺌﺬ ﻳﺴﺘﺤﺐ ﺃﻥ ﻳﺸﻬﺪ ﺫﺑﺤﻬﺎ.
৪. অর্থ: আল্লামা নবভী (রহ.) বলেন: নবী (ﷺ) নিজ হাতে মেষ দু’টিকে জবাই করেছেন” এর দ্বারা বুঝা যায় যে, ব্যক্তি তার পশু কোনো অপরাগতা না থাকলে অন্য কারো সাহায্য গ্ৰহণ করা ব্যতীত একাকী জবাই করাটাই উত্তম ও মুস্তাহাব। (শারহুন নবভী আলা মুসলিম হাদীস নং ১৯৬৬, খ. ১৩ পৃ. ১২০)
عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الأَنْصَارِ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ سَعْدٍ أَوْ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ، أَخْبَرَهُ: أَنَّ جَارِيَةً لِكَعْبِ بْنِ مَالِكٍ كَانَتْ تَرْعَى غَنَمًا بِسَلْعٍ، فَأُصِيبَتْ شَاةٌ مِنْهَا، فَأَدْرَكَتْهَا فَذَبَحَتْهَا بِحَجَرٍ، فَسُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «كُلُوهَا»
৫.অর্থ: জনৈক আনসারী থেকে তিনি মু‘আয ইবনে সা‘দ কিংবা সা‘দ ইবনে মু‘আয (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, কা‘ব ইবনে মালিক (রা.)-এর একটি দাসী ‘সালা’ পাহাড়ে বকরি চরাতো। বকরিগুলোর মধ্যে একটিকে মরে যাচ্ছে দেখে সে একটি পাথর দিয়ে সেটিকে যবেহ করল। এই ব্যাপারে নবী করীম (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেনঃ সেটি খাও। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫০৫ হাদীসের মান: সহীহ)
ﻋﻦ اﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺯاﺩ اﺑﻦ ﻋﻴﺴﻰ ﻭﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻻ ﻧﻬﻰ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﺷﺮﻳﻄﺔ اﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺯاﺩ اﺑﻦ ﻋﻴﺴﻰ ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺜﻪ ﻭﻫﻲ اﻟﺘﻲ ﺗﺬﺑﺢ ﻓﻴﻘﻄﻊ اﻟﺠﻠﺪ ﻭﻻ ﺗﻔﺮﻯ اﻷﻭﺩاﺝ ﺛﻢ ﺗﺘﺮﻙ ﺣﺘﻰ ﺗﻤﻮﺕ.
৬.অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোনো পশু পাখিকে শয়তানের শর্তাধীনে জবাই করতে নিষেধ করেছেন। আর তা হলো, কোনো পশু পাখিকে এমনভাবে জবাই করা হয় যে, শুধু গলার চামড়া কাটা হবে কিন্তু কোনো রগ কাটা হবে না। এমতাবস্থায় ছটফট করতে করতে মারা যাবে। (মায়ালিমুস সুনান খ. ৪ পৃ. ২৮১ হাদীসের মান: সহীহ)
وَاللّٰهُ أعْلَمُ باِلصَّوَابْ
উত্তর প্রদানে- মোঃ আব্দুল কাদের।
শিক্ষার্থী: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
উত্তর নিরীক্ষণে: মুফতি রায়হান জামিল।
পরিচালক: মানহাল ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।
Leave a Reply